Hi

০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি পুকুরের মাছ বিক্রির টাকা এখনো জমা হয়নি কোষাগারে

বাগমারা প্রতিনিধি:

সম্প্রতি বাগমারার বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সেলিম আহমেদ কর্তৃক রাতের আঁধারে উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুর থেকে মাছ বিক্রির ৮৪ হাজার টাকা এখনও কোষাগারে জমা হয়নি। ওই টাকা বর্তমানে কার কাছে রয়েছে সেই তথ্যও অজানা। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ঘটনা উদঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার ২৬ পেরিয়ে গেলেও আজও তা হয়নি। জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সেলিম আহমেদকে সম্প্রতি বাগমারা থেকে পাবনার সাথিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়। আর বদলির চিঠি পাওয়ার পর বাগমারা ছাড়ার আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত দুইটার দিকে তিনি রাতের আঁধারে উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রি করেন। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা পরিষদের পুকুরের মাছ ধরার জন্য ইউএনও সেলিম আহমেদের নির্দেশে অফিসের সার্টিফিকেট অফিসার কাওছার আহমেদ জেলে ঠিক করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দুই কমিটির অনুমোদন ছাড়াই রাতের আঁধারে ওই পুকুর থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাছ ধরা হয়। তবে ৮৪ হাজার টাকার মাছ বিক্রির কথা স্বীকারও করেন অভিযুক্ত ইউএনও সেলিম আহমেদ। গত ৪ সেপ্টেম্বর ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিসমিল্লাহ্ মৎস্য আড়তে ৮৪ হাজার ১৪২ টাকার মাছ বিক্রির একটি ভাউচারও পাওয়া যায়। উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে রাতের আঁধারে মাছ ধরা ও আড়তে বিক্রির ঘটনার সাথে ইউএনও অফিসের সার্টিফিকেট অফিসার কাওছার আহমেদ, নৈশ্য প্রহরী মোস্তাফিজুর রহমান ও ইউএনও’র গাড়ী চালক জামালসহ আরো কয়েকজন কর্মচারী জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে সার্টিফিকেট অফিসার কাওছার আহমেদ এই ঘটনা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নৈশ্য প্রহরী মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে থেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে হোয়াটসআ্যাপে আড়তে ৮৪ হাজার ১৪২ টাকার মাছ বিক্রির একটি ভাউচার পেয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন। অপরদিকে নৈশ্য প্রহরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সার্টিফিকেট অফিসার কাওছার আহমেদের নির্দেশেই তিনি আড়তে গিয়ে মাছ বিক্রির ওই ভাউচার নিয়ে এসেছেন। এ সময় তিনি শুধু একা নন আরো চারজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। (ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষিত)। এ বিষয়ে বাগমারার বর্তমান ইউএনও রিজু তামান্না বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি এই অফিসে যোগদান করেই ঘটনাটি শুনেছেন। তবে সরকারি পুকুরের মাছ বিক্রির টাকা কোষাগারে জমা না দিয়ে কার হেফাজতে রাখা হয়েছে সেই তথ্য উদঘাটনের জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করা হবে বলেও তিনি জানান।

ট্যাগ :

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-মেইল ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

যাচাইকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবুর রাজ্যখ্যাত ঝালকাঠিতে লেবুর আকাল, রমজানে দ্বিগুণ দাম

সরকারি পুকুরের মাছ বিক্রির টাকা এখনো জমা হয়নি কোষাগারে

সরকারি পুকুরের মাছ বিক্রির টাকা এখনো জমা হয়নি কোষাগারে

আপডেট সময় : ১১:৩১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগমারা প্রতিনিধি:

সম্প্রতি বাগমারার বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সেলিম আহমেদ কর্তৃক রাতের আঁধারে উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুর থেকে মাছ বিক্রির ৮৪ হাজার টাকা এখনও কোষাগারে জমা হয়নি। ওই টাকা বর্তমানে কার কাছে রয়েছে সেই তথ্যও অজানা। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ঘটনা উদঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার ২৬ পেরিয়ে গেলেও আজও তা হয়নি। জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সেলিম আহমেদকে সম্প্রতি বাগমারা থেকে পাবনার সাথিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়। আর বদলির চিঠি পাওয়ার পর বাগমারা ছাড়ার আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত দুইটার দিকে তিনি রাতের আঁধারে উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রি করেন। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা পরিষদের পুকুরের মাছ ধরার জন্য ইউএনও সেলিম আহমেদের নির্দেশে অফিসের সার্টিফিকেট অফিসার কাওছার আহমেদ জেলে ঠিক করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দুই কমিটির অনুমোদন ছাড়াই রাতের আঁধারে ওই পুকুর থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাছ ধরা হয়। তবে ৮৪ হাজার টাকার মাছ বিক্রির কথা স্বীকারও করেন অভিযুক্ত ইউএনও সেলিম আহমেদ। গত ৪ সেপ্টেম্বর ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিসমিল্লাহ্ মৎস্য আড়তে ৮৪ হাজার ১৪২ টাকার মাছ বিক্রির একটি ভাউচারও পাওয়া যায়। উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে রাতের আঁধারে মাছ ধরা ও আড়তে বিক্রির ঘটনার সাথে ইউএনও অফিসের সার্টিফিকেট অফিসার কাওছার আহমেদ, নৈশ্য প্রহরী মোস্তাফিজুর রহমান ও ইউএনও’র গাড়ী চালক জামালসহ আরো কয়েকজন কর্মচারী জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে সার্টিফিকেট অফিসার কাওছার আহমেদ এই ঘটনা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নৈশ্য প্রহরী মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে থেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে হোয়াটসআ্যাপে আড়তে ৮৪ হাজার ১৪২ টাকার মাছ বিক্রির একটি ভাউচার পেয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন। অপরদিকে নৈশ্য প্রহরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সার্টিফিকেট অফিসার কাওছার আহমেদের নির্দেশেই তিনি আড়তে গিয়ে মাছ বিক্রির ওই ভাউচার নিয়ে এসেছেন। এ সময় তিনি শুধু একা নন আরো চারজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। (ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষিত)। এ বিষয়ে বাগমারার বর্তমান ইউএনও রিজু তামান্না বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি এই অফিসে যোগদান করেই ঘটনাটি শুনেছেন। তবে সরকারি পুকুরের মাছ বিক্রির টাকা কোষাগারে জমা না দিয়ে কার হেফাজতে রাখা হয়েছে সেই তথ্য উদঘাটনের জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করা হবে বলেও তিনি জানান।