
গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সে কেপিআই ও বঙ্গভবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ নির্মাণকাজ চালানো এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বঙ্গভবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলেই গোপনে একাধিক ফ্লোরে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে কেপিআই ডিসির এক সভায় বঙ্গভবনের নিরাপত্তার স্বার্থে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সে ১২ তলার উপরে কোনো নির্মাণকাজ না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেও ডেভেলপারকে লিখিতভাবে ১২ তলার উপরের অংশে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এসব নির্দেশনা অমান্য করে রাতের আঁধারে ঢালাই, টাইলস ও ফিটিংসের কাজ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম, কথিত প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল হক এবং ডেভেলপার এস এম আলাউদ্দিনের যোগসাজশে এই অবৈধ নির্মাণ পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ কাজে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই কাজ চালানো হচ্ছে।
এদিকে নির্মাণকাজ চলাকালীন এক শ্রমিক গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় শ্রমিকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিকবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাস্ট ন্যায্য ভাড়া, স্কয়ার ফিট অনুযায়ী অর্থ কিংবা সাইনিং মানি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারিয়েছে। এর আগেও ২৪০ কোটি টাকার একটি মামলা দায়ের হলেও তা আজও নিষ্পত্তি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হিসেবে বলা হয়েছে, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় অভিযোগকারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার নজরে আনার জন্য তিনি প্রধান উপদেষ্টা, দুর্নীতি দমন কমিশন, আইন উপদেষ্টা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপদেষ্টা, রাজউকসহ একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহলের মতে, বঙ্গভবনের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক অধিকার রক্ষায় নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এখন সময়ের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক 







