
শাহরিয়ার কবির (খুলনা):
বিয়ের সাজ এখনো মুছেনি, হাতের মেহেদিও শুকায়নি—এরই মধ্যে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেল এক নববধূর নতুন জীবনের স্বপ্ন। খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বোলাই ব্রিজ এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নববধূসহ একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।নিহতরা হলেন—খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের ছালাম মোড়লের মেয়ে নববধূ মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া (১০) এবং মৃত শামছুউদ্দিন মোড়লের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৭৫)। দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিকেল প্রায় চারটার দিকে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বোলাই ব্রিজ এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা সালাম মোড়লের মেয়ে মিতুর বিয়ে হয় রামপাল উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার সকালে নববধূ মিতু তার ছোট বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা বেগমকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাদের সঙ্গে বরপক্ষের আরও কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন একটি মাইক্রোবাসে করে যাচ্ছিলেন।পথিমধ্যে মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বোলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে মোংলা দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান। তবে দুর্ঘটনার তীব্রতায় অনেকেই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।এদিকে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছানোর পর কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামে নেমে আসে শোকের মাতম। নববধূর বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিবেশ।স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল সানা বলেন, “বিয়ের আনন্দে যে মেয়েটি নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিল, তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর।”পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। নিহত ও আহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শাহরিয়ার কবির 







