Hi

১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৎ মানুষের কাছে প্রশাসন বন্ধু, অসৎ মানুষের কাছে শত্রুন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এক সার্বজনীন বার্তা

মোঃ আইনুল ইসলাম
রংপুর বিভাগীয় প্রধান:

একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র কিংবা একটি জাতির প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয়—সেখানে সৎ মানুষ কতটা নিরাপদ এবং অন্যায়কারী কতটা নিয়ন্ত্রিত তার মাধ্যমে। ইতিহাস, ধর্মীয় শিক্ষা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও মানবিক দর্শনের আলোকে একটি বিষয় বারবার প্রমাণিত হয়েছে—
সৎ মানুষের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনো শত্রু নয়; বরং তারা ন্যায় ও নিরাপত্তার প্রাকৃতিক সহযাত্রী। অন্যদিকে, যারা দুর্নীতি, অন্যায় ও অবৈধ স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত—আইন ও প্রশাসন তাদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই সত্য কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সার্বজনীন নৈতিক বাস্তবতা। সৎ মানুষের ভয়ের কারণ নেই,
যারা সত্য ও ন্যায়ের পথে জীবন পরিচালনা করেন, তাদের জন্য প্রশাসন কখনো আতঙ্কের নাম নয়। কারণ—তারা কারও অধিকার হরণ করেন না, তারা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেন না, তারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন না, আইনের উপস্থিতি তাদের কাছে নিরাপত্তার প্রতীক।
ভয় থাকে তাদেরই—যারা দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়, যারা অন্যের শ্রম ও সম্পদ আত্মসাৎ করে, যারা ভয় ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সমাজ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়,
আইন হলো আয়নার মতো—সেখানে সত্য স্পষ্ট হয়, আর মিথ্যা মুখোশ টিকে থাকতে পারে না।
প্রশাসন: শাসনের যন্ত্র নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যম, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো দমনমূলক শক্তি নয়। তারা— সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষা করে, দুর্বল ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়,
ন্যায় ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে, সচেতন ও সৎ নাগরিকরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন, কারণ তারা জানেন—
রাষ্ট্র টিকে থাকে পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্ববোধের উপর, ভয়ের সংস্কৃতির উপর নয়। অসৎ শক্তির আধিপত্য ও সৎ মানুষের নীরবতা, বাস্তবতা হলো, অনেক সমাজেই অসৎ ও অন্যায়কারী শক্তি সংগঠিত ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
তারা— অবৈধ ক্ষমতা ও অর্থ ব্যবহার করে হুমকি ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষকে কোণঠাসা করতে চায়,
এ অবস্থায় বহু সৎ মানুষ পরিবার, সম্মান ও নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেন না। তাদের নীরবতা অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হলেও, বাস্তবে এটি— অসহায়তার এক নীরব আর্তনাদ।
অনেকেই তখন দেশ ও মানুষের কল্যাণ কামনায় স্রষ্টার দরবারে প্রার্থনার পথ বেছে নেন।
সাহসী সৎ মানুষরাই ইতিহাসের চালিকাশক্তি, তবুও ইতিহাস প্রমাণ করে—পৃথিবী কখনো অন্যায়ের হাতে স্থায়ীভাবে বন্দী থাকে না। কারণ প্রতিটি যুগেই কিছু মানুষ থাকেন— যারা ভয়কে অতিক্রম করেন
যারা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না,
যারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন,
সংখ্যায় তারা কম হতে পারেন, কিন্তু ইতিহাসের প্রতিটি বড় পরিবর্তনের পেছনে এই সাহসী সংখ্যালঘুরাই ভূমিকা রেখেছেন।
সত্যের পথ কখনো সহজ নয়, কিন্তু বিজয় শেষ পর্যন্ত সত্যের পক্ষেই আসে।
নাগরিকদের প্রতি এক দায়ীত্বশীল আহ্বান
এই প্রেক্ষাপটে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি একটি স্পষ্ট আহ্বান—সৎ থাকুন, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমাজের কল্যাণে সহযোগিতা করুন,
ভয় নয়, নৈতিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিন, কারণ ভালো মানুষের সংখ্যা কম হলেও, তাদের নৈতিক শক্তিই সমাজকে টিকিয়ে রাখে। একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন আমাদের সম্মিলিত সংকল্প হোক—
সমাজ ও দেশের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান বজায় রাখা আমাদের স্বপ্ন হোক—
একটি ভয়মুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যেতে পারে একটি সচেতন জাতি। এই সত্য নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায়ের চূড়ান্ত বিজয়।

ট্যাগ :

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-মেইল ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

যাচাইকারীর তথ্য

imran 2006

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবুর রাজ্যখ্যাত ঝালকাঠিতে লেবুর আকাল, রমজানে দ্বিগুণ দাম

দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের ৭ টি জেলার সাংবাদিকদের মাঝে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণ

© All rights reserved ©Durneti Anusandhan News
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Newseason IT

সৎ মানুষের কাছে প্রশাসন বন্ধু, অসৎ মানুষের কাছে শত্রুন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এক সার্বজনীন বার্তা

আপডেট সময় : ০২:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

মোঃ আইনুল ইসলাম
রংপুর বিভাগীয় প্রধান:

একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র কিংবা একটি জাতির প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয়—সেখানে সৎ মানুষ কতটা নিরাপদ এবং অন্যায়কারী কতটা নিয়ন্ত্রিত তার মাধ্যমে। ইতিহাস, ধর্মীয় শিক্ষা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও মানবিক দর্শনের আলোকে একটি বিষয় বারবার প্রমাণিত হয়েছে—
সৎ মানুষের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনো শত্রু নয়; বরং তারা ন্যায় ও নিরাপত্তার প্রাকৃতিক সহযাত্রী। অন্যদিকে, যারা দুর্নীতি, অন্যায় ও অবৈধ স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত—আইন ও প্রশাসন তাদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই সত্য কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সার্বজনীন নৈতিক বাস্তবতা। সৎ মানুষের ভয়ের কারণ নেই,
যারা সত্য ও ন্যায়ের পথে জীবন পরিচালনা করেন, তাদের জন্য প্রশাসন কখনো আতঙ্কের নাম নয়। কারণ—তারা কারও অধিকার হরণ করেন না, তারা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেন না, তারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন না, আইনের উপস্থিতি তাদের কাছে নিরাপত্তার প্রতীক।
ভয় থাকে তাদেরই—যারা দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়, যারা অন্যের শ্রম ও সম্পদ আত্মসাৎ করে, যারা ভয় ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সমাজ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়,
আইন হলো আয়নার মতো—সেখানে সত্য স্পষ্ট হয়, আর মিথ্যা মুখোশ টিকে থাকতে পারে না।
প্রশাসন: শাসনের যন্ত্র নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যম, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো দমনমূলক শক্তি নয়। তারা— সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষা করে, দুর্বল ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়,
ন্যায় ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে, সচেতন ও সৎ নাগরিকরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন, কারণ তারা জানেন—
রাষ্ট্র টিকে থাকে পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্ববোধের উপর, ভয়ের সংস্কৃতির উপর নয়। অসৎ শক্তির আধিপত্য ও সৎ মানুষের নীরবতা, বাস্তবতা হলো, অনেক সমাজেই অসৎ ও অন্যায়কারী শক্তি সংগঠিত ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
তারা— অবৈধ ক্ষমতা ও অর্থ ব্যবহার করে হুমকি ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষকে কোণঠাসা করতে চায়,
এ অবস্থায় বহু সৎ মানুষ পরিবার, সম্মান ও নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেন না। তাদের নীরবতা অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হলেও, বাস্তবে এটি— অসহায়তার এক নীরব আর্তনাদ।
অনেকেই তখন দেশ ও মানুষের কল্যাণ কামনায় স্রষ্টার দরবারে প্রার্থনার পথ বেছে নেন।
সাহসী সৎ মানুষরাই ইতিহাসের চালিকাশক্তি, তবুও ইতিহাস প্রমাণ করে—পৃথিবী কখনো অন্যায়ের হাতে স্থায়ীভাবে বন্দী থাকে না। কারণ প্রতিটি যুগেই কিছু মানুষ থাকেন— যারা ভয়কে অতিক্রম করেন
যারা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না,
যারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন,
সংখ্যায় তারা কম হতে পারেন, কিন্তু ইতিহাসের প্রতিটি বড় পরিবর্তনের পেছনে এই সাহসী সংখ্যালঘুরাই ভূমিকা রেখেছেন।
সত্যের পথ কখনো সহজ নয়, কিন্তু বিজয় শেষ পর্যন্ত সত্যের পক্ষেই আসে।
নাগরিকদের প্রতি এক দায়ীত্বশীল আহ্বান
এই প্রেক্ষাপটে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি একটি স্পষ্ট আহ্বান—সৎ থাকুন, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমাজের কল্যাণে সহযোগিতা করুন,
ভয় নয়, নৈতিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিন, কারণ ভালো মানুষের সংখ্যা কম হলেও, তাদের নৈতিক শক্তিই সমাজকে টিকিয়ে রাখে। একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন আমাদের সম্মিলিত সংকল্প হোক—
সমাজ ও দেশের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান বজায় রাখা আমাদের স্বপ্ন হোক—
একটি ভয়মুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যেতে পারে একটি সচেতন জাতি। এই সত্য নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায়ের চূড়ান্ত বিজয়।