
মোঃ আইনুল ইসলাম,
রংপুর বিভাগীয় প্রধান,দুর্নীতি অনুসন্ধান নিউজ।
দিনাজপুর, ২ মার্চ ২০২৬ (সোমবার): গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করতে নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হলো অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা। সকাল ১০টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভার আয়োজন করে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক, দিনাজপুর জেলা কমিটি।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুজন, দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি বেলাল উদ্দিন আহমেদ রুবেল এবং কোষাধ্যক্ষ মোসাম্মৎ মাসুদা খাতুন।
গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে সংগঠিত নাগরিক সমাজের আহ্বান প্রধান আলোচক বদিউল আলম মজুমদার তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে বলেন, গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীর মধ্যে। তিনি উল্লেখ করেন, সুজন এমন একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম—যা দলমত নির্বিশেষে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে মানুষের পাশে থেকে গঠনমূলক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করতে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে কার্যকর ও দায়বদ্ধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সদস্য বাছাইয়ে সততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও জনকল্যাণে কাজ করার মানসিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
তার ভাষায়, “গণতন্ত্রকে কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; বরং নাগরিকদের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর সে লক্ষ্যেই সুজন কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আরও ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে চায়।” পরিচয় পর্ব ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা অনুষ্ঠানে দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলা, থানা ও পৌরসভা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে উপস্থিত সকলে নিজ নিজ পরিচয় প্রদান করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন, যা নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সম্পৃক্ততার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হয়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সুজনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে সাংগঠনিক কাঠামো সুসংহত করা হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি জোরদার করা হবে।
একইসঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক চর্চা সম্প্রসারণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। নাগরিক অংশগ্রহণ ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল সভার মূল প্রতিপাদ্য—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
মোঃআইনুল ইসলাম 







