Hi

১২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক গোর- এ -শহীদ বড় ময়দান ঘিরে আন্দোলন: কাঁটাতারের বেড়া অপসারণ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

  • মোঃআইনুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ৮৩ জন দেখেছে

মোঃ আইনুল ইসলাম

রংপুর বিভাগীয় প্রধান,

দুর্নীতি অনুসন্ধান নিউজ।

 

ঐতিহ্য, ধর্মীয় অনুভূতি এবং ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রতীক দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান উন্মুক্ত রাখার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে দিনাজপুরবাসী। আজ বৃহস্পতিবার দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে “ময়দান বাঁচাও, দিনাজপুর বাঁচাও”, “উন্মুক্ত হোক দিনাজপুর বড় ময়দান”, “ঈদের নামাজ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মাঠ ফিরিয়ে দাও—আমাদের মাঠ, আমাদের অধিকার” ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। তারা বড় ময়দানে দেওয়া কাঁটাতারের বেড়া অপসারণের দাবী জানান।ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্বের কেন্দ্র

বক্তারা বলেন, প্রায় ৭৮ একর আয়তনের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান শুধু একটি খেলার মাঠ নয়—এটি দিনাজপুরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ মিনার, যেখানে প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা সমবেত হন।সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের প্রধান জামাতে এখানে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মুসল্লী একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন, যা দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। ঈদগাহ মিনারটি নির্মিত হয়েছে মোগল স্থাপত্যরীতিতে। এতে রয়েছে ৫২টি গম্বুজ, দুটি ৬০ ফুট উচ্চতার মিনার এবং ৫৫ ফুট উচ্চতার মেহরাব। নান্দনিক এই স্থাপনা দিনাজপুরের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।ক্রীড়া ও সামাজিক ঐতিহ্য

বক্তারা আরও বলেন, এই বড় ময়দান থেকেই জাতীয় ক্রিকেটার লিটন দাস, ধিমান ঘোষসহ অসংখ্য ক্রীড়াবিদ উঠে এসেছেন। বর্তমানে এখানে পাঁচটি ক্রিকেট একাডেমির কয়েক শতাধিক খেলোয়াড় নিয়মিত অনুশীলন করে থাকে। ফলে মাঠটি দিনাজপুরের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাঠের একটি অংশে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল, খেলাধুলা এবং সামাজিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।তারা বলেন, “এই মাঠ দিনাজপুরবাসীর ঐতিহ্যের প্রতীক। এখানে ঈদের জামাত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বহুদিন ধরে চলে আসছে। তাই মাঠটি উন্মুক্ত রাখা জরুরি।”

বক্তারা অবিলম্বে বড় ময়দান থেকে কাঁটাতারের বেড়া অপসারণ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও সতর্ক করেন তারা। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে এই বিস্তীর্ণ মাঠে সামরিক সমাবেশ ও ঘোড়দৌড় অনুষ্ঠিত হতো।

পাকিস্তান আমলে এখানে অনুষ্ঠিত হতো নর-নারায়ণ শিল্ড ফুটবল প্রতিযোগিতা। মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর এই মাঠেই দিনাজপুরে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

বর্তমানে এটি দিনাজপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এবং শহরের জিরো পয়েন্টের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত। মানববন্ধনে উপস্থিতি: মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মেসাদ্দেক হোসেন লাবু, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি আক্তারুজ্জামান জুয়েল, পিয়াল আহমেদ, গোলাম নবী দুলাল, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রেজাউর রহমান রেজু, সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু, অ্যাডভোকেট মেহেরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ও দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য রেহাতুল ইসলাম খোকাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান সমাবেশে বক্তারা প্রসাশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক এই মাঠের ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সমাধান নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় দিনাজপুরবাসী বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

ট্যাগ :

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-মেইল ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

যাচাইকারীর তথ্য

লেবুর রাজ্যখ্যাত ঝালকাঠিতে লেবুর আকাল, রমজানে দ্বিগুণ দাম

*কষ্টের আগুনে পোড়া মন: ভালোবাসার জলেও কেন সব ক্ষত মুছে যায় না?*

© All rights reserved ©Durneti Anusandhan News
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Newseason IT

ঐতিহাসিক গোর- এ -শহীদ বড় ময়দান ঘিরে আন্দোলন: কাঁটাতারের বেড়া অপসারণ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৫:১৪:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

মোঃ আইনুল ইসলাম

রংপুর বিভাগীয় প্রধান,

দুর্নীতি অনুসন্ধান নিউজ।

 

ঐতিহ্য, ধর্মীয় অনুভূতি এবং ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রতীক দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান উন্মুক্ত রাখার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে দিনাজপুরবাসী। আজ বৃহস্পতিবার দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে “ময়দান বাঁচাও, দিনাজপুর বাঁচাও”, “উন্মুক্ত হোক দিনাজপুর বড় ময়দান”, “ঈদের নামাজ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মাঠ ফিরিয়ে দাও—আমাদের মাঠ, আমাদের অধিকার” ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। তারা বড় ময়দানে দেওয়া কাঁটাতারের বেড়া অপসারণের দাবী জানান।ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্বের কেন্দ্র

বক্তারা বলেন, প্রায় ৭৮ একর আয়তনের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান শুধু একটি খেলার মাঠ নয়—এটি দিনাজপুরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ মিনার, যেখানে প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা সমবেত হন।সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের প্রধান জামাতে এখানে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মুসল্লী একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন, যা দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। ঈদগাহ মিনারটি নির্মিত হয়েছে মোগল স্থাপত্যরীতিতে। এতে রয়েছে ৫২টি গম্বুজ, দুটি ৬০ ফুট উচ্চতার মিনার এবং ৫৫ ফুট উচ্চতার মেহরাব। নান্দনিক এই স্থাপনা দিনাজপুরের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।ক্রীড়া ও সামাজিক ঐতিহ্য

বক্তারা আরও বলেন, এই বড় ময়দান থেকেই জাতীয় ক্রিকেটার লিটন দাস, ধিমান ঘোষসহ অসংখ্য ক্রীড়াবিদ উঠে এসেছেন। বর্তমানে এখানে পাঁচটি ক্রিকেট একাডেমির কয়েক শতাধিক খেলোয়াড় নিয়মিত অনুশীলন করে থাকে। ফলে মাঠটি দিনাজপুরের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাঠের একটি অংশে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল, খেলাধুলা এবং সামাজিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।তারা বলেন, “এই মাঠ দিনাজপুরবাসীর ঐতিহ্যের প্রতীক। এখানে ঈদের জামাত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বহুদিন ধরে চলে আসছে। তাই মাঠটি উন্মুক্ত রাখা জরুরি।”

বক্তারা অবিলম্বে বড় ময়দান থেকে কাঁটাতারের বেড়া অপসারণ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও সতর্ক করেন তারা। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে এই বিস্তীর্ণ মাঠে সামরিক সমাবেশ ও ঘোড়দৌড় অনুষ্ঠিত হতো।

পাকিস্তান আমলে এখানে অনুষ্ঠিত হতো নর-নারায়ণ শিল্ড ফুটবল প্রতিযোগিতা। মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর এই মাঠেই দিনাজপুরে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

বর্তমানে এটি দিনাজপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এবং শহরের জিরো পয়েন্টের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত। মানববন্ধনে উপস্থিতি: মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মেসাদ্দেক হোসেন লাবু, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি আক্তারুজ্জামান জুয়েল, পিয়াল আহমেদ, গোলাম নবী দুলাল, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রেজাউর রহমান রেজু, সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু, অ্যাডভোকেট মেহেরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ও দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য রেহাতুল ইসলাম খোকাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান সমাবেশে বক্তারা প্রসাশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক এই মাঠের ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সমাধান নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় দিনাজপুরবাসী বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।