Hi

০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজিরহাটে মোবাইল কোর্টের অভিযানে অনিয়মের ভিড়: প্রশাসনের নিরাপত্তা প্রচেষ্টায় যাত্রীদেরই চরম অনীহা।

  • মোঃ আল আমিন
  • আপডেট সময় : ০৫:০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ৮৬ জন দেখেছে

মোঃ আল আমিন বেড়া

উপজেলা প্রতিনিধি:

 

আজ ২৮/০৩/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ কাজিরহাট ফেরিঘাট এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় সহায়তাকারী ফোর্স হিসেবে উপস্থিত ছিলো আমিনপুর থানা পুলিশ, কাজিরহাট নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর। ঘাটে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চ নিয়ন্ত্রণ, স্পীডবোটের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, সিএনজি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানটি পরিচালিত হয়। খুবই দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি, যাত্রীদের হয়রানির পিছনে অসাধু সিণ্ডিকেটয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের নিজেদের দায়ও কিছু অংশে কম নয়। স্পীডবোটের তেল সংকটের কারণে ঘাট সরকারিভাবে বন্ধ, অসাধু উপায়ে কিছু সংখ্যক স্পীডবোট নায্যমূল্যের অত্যাধিক ভাড়া দিয়ে চলাচল করছে। যাত্রীরা একটি স্পীডবোট আসলেই লাফিয়ে উঠে পড়ছে, নির্ধারিত ১২ জনের জায়গায় ১৮ জন করে উঠাচ্ছে, যাত্রীরা আরো উঠতে চাচ্ছে। এমন একটি স্পীডবোট ধরতে পেরে আমি যাত্রীদের জিজ্ঞাস করলাম, ভাড়া কত। তারা বলছে জানে না। যত টাকা নেক তাদের আপত্তি নেই কিন্তু এভাবেই যেতে হবে। সেই স্পীডবোটে ১৭ জন বড়, ৩টা বাচ্চা, বড়রাতো লাইফ জ্যাকেট পরেইনি, বাচ্চাদেরও পড়ায়নি। অতিরিক্ত ৫ জনকে নেমে যেতে বললাম, কেউ নামবে না। পড়ে স্পীডবোটের ড্রাইভারকে জরিমানা করে ও তারপর যাত্রীদের জেলের ভয় দেখিয়ে নামতে বাধ্য করা লাগলো এবং নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বাধ্য করে লাইফ জ্যাকেট পরানো লাগলো। নিজের লাইফের সিকিউরিটি কি নিজের নয়, শুধুই প্রশাসনের?

তারপর আসি লঞ্চের কথায়। পর্যাপ্ত লঞ্চ আছে, একটা ছেঁড়ে গেলে দশ মিনিটের মধ্যে আরেকটা আসছে, এর পরেও মানুষজনের ঘাটে যেটা আছে সেটাতেই উঠা লাগবে, ছাদে হলেও উঠা লাগবে। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ১২টা লঞ্চ যাত্রী গুনে নিয়ন্ত্রণ করলাম যাতে অতিরিক্ত যাত্রী না নিতে পারে। তারপর ট্রলার ঘাটে যেতেই আবার অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই শুরু। আবার দৌঁড়ে এসে বারবার সিগন্যাল দেয়ার পরেও লঞ্চ ছেঁড়ে দিলো। লাইফের রিস্ক নিয়ে সেটায় উঠে গিয়ে আমার স্টাফ মাঝ নদী থেকে সেই লঞ্চ আবার ঘাটে ভিড়িয়ে আনলো, তারপর সেটাকে জরিমানা করলাম। মানুষ সেই অতিরিক্ত বোঝাই লঞ্চেই আবার উঠার চেষ্টা করতে লাগলো এর মধ্যেই, সেই জেলের কথা বলে ঠেকালাম।ফেরিঘাটে পন্টুনের উপর ডাব ঝালমুড়ি পপকর্ণ বিক্রি করছে আবার সেই জেলের কথা বলে নামালাম।ট্রলার ঘাটে গিয়ে ট্রলারে যাত্রীবহন নিরাপদ নয় ও অতিরিক্ত যাত্রী নিচ্ছে বলে যাত্রীদের পুলিশ সরিয়ে দিলো, তাও যাত্রীরা এতে করেই যাবে। মাঝিকে ধরতে গেলে ট্রলার ইঞ্জিন চালু করলো, সেটাকে ধরতে গেলাম, তখন শুনলাম নৌপুলিশের স্পীডবোট নষ্ট। অথচ আগে জানানো হয়নি। এরকম সক্ষমতা নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করাও একটা চ্যালেঞ্জ।এর আগে সকালে সিএন্ডবিতে সিএনজির ভাড়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলাম। সেটা আমার এরিয়া না হওয়ায় মোবাইল কোর্টে শাস্তি দিতে পারিনি কিন্তু প্রায় এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে ৩০টির মত সিএনজি সঠিক ভাড়ায় যাত্রীবহন নিশ্চিত করেছি। কাজীরহাটেও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রীদের অভিযোগে সাড়া দিয়ে সিএনজি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করেছি। কিন্তু একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অন্তর্যামী নন, তিনি একই সাথে সব জায়গায় থাকতে পারেন না। নিজ নিজ এলাকায় আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে দয়া করে আরো সচেতন হন। আর সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব, প্রশাসনতো আছেই।

ট্যাগ :

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-মেইল ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

যাচাইকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবুর রাজ্যখ্যাত ঝালকাঠিতে লেবুর আকাল, রমজানে দ্বিগুণ দাম

দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের ৭ টি জেলার সাংবাদিকদের মাঝে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণ

© All rights reserved ©Durneti Anusandhan News
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Newseason IT

কাজিরহাটে মোবাইল কোর্টের অভিযানে অনিয়মের ভিড়: প্রশাসনের নিরাপত্তা প্রচেষ্টায় যাত্রীদেরই চরম অনীহা।

আপডেট সময় : ০৫:০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

মোঃ আল আমিন বেড়া

উপজেলা প্রতিনিধি:

 

আজ ২৮/০৩/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ কাজিরহাট ফেরিঘাট এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় সহায়তাকারী ফোর্স হিসেবে উপস্থিত ছিলো আমিনপুর থানা পুলিশ, কাজিরহাট নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর। ঘাটে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চ নিয়ন্ত্রণ, স্পীডবোটের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, সিএনজি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানটি পরিচালিত হয়। খুবই দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি, যাত্রীদের হয়রানির পিছনে অসাধু সিণ্ডিকেটয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের নিজেদের দায়ও কিছু অংশে কম নয়। স্পীডবোটের তেল সংকটের কারণে ঘাট সরকারিভাবে বন্ধ, অসাধু উপায়ে কিছু সংখ্যক স্পীডবোট নায্যমূল্যের অত্যাধিক ভাড়া দিয়ে চলাচল করছে। যাত্রীরা একটি স্পীডবোট আসলেই লাফিয়ে উঠে পড়ছে, নির্ধারিত ১২ জনের জায়গায় ১৮ জন করে উঠাচ্ছে, যাত্রীরা আরো উঠতে চাচ্ছে। এমন একটি স্পীডবোট ধরতে পেরে আমি যাত্রীদের জিজ্ঞাস করলাম, ভাড়া কত। তারা বলছে জানে না। যত টাকা নেক তাদের আপত্তি নেই কিন্তু এভাবেই যেতে হবে। সেই স্পীডবোটে ১৭ জন বড়, ৩টা বাচ্চা, বড়রাতো লাইফ জ্যাকেট পরেইনি, বাচ্চাদেরও পড়ায়নি। অতিরিক্ত ৫ জনকে নেমে যেতে বললাম, কেউ নামবে না। পড়ে স্পীডবোটের ড্রাইভারকে জরিমানা করে ও তারপর যাত্রীদের জেলের ভয় দেখিয়ে নামতে বাধ্য করা লাগলো এবং নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বাধ্য করে লাইফ জ্যাকেট পরানো লাগলো। নিজের লাইফের সিকিউরিটি কি নিজের নয়, শুধুই প্রশাসনের?

তারপর আসি লঞ্চের কথায়। পর্যাপ্ত লঞ্চ আছে, একটা ছেঁড়ে গেলে দশ মিনিটের মধ্যে আরেকটা আসছে, এর পরেও মানুষজনের ঘাটে যেটা আছে সেটাতেই উঠা লাগবে, ছাদে হলেও উঠা লাগবে। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ১২টা লঞ্চ যাত্রী গুনে নিয়ন্ত্রণ করলাম যাতে অতিরিক্ত যাত্রী না নিতে পারে। তারপর ট্রলার ঘাটে যেতেই আবার অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই শুরু। আবার দৌঁড়ে এসে বারবার সিগন্যাল দেয়ার পরেও লঞ্চ ছেঁড়ে দিলো। লাইফের রিস্ক নিয়ে সেটায় উঠে গিয়ে আমার স্টাফ মাঝ নদী থেকে সেই লঞ্চ আবার ঘাটে ভিড়িয়ে আনলো, তারপর সেটাকে জরিমানা করলাম। মানুষ সেই অতিরিক্ত বোঝাই লঞ্চেই আবার উঠার চেষ্টা করতে লাগলো এর মধ্যেই, সেই জেলের কথা বলে ঠেকালাম।ফেরিঘাটে পন্টুনের উপর ডাব ঝালমুড়ি পপকর্ণ বিক্রি করছে আবার সেই জেলের কথা বলে নামালাম।ট্রলার ঘাটে গিয়ে ট্রলারে যাত্রীবহন নিরাপদ নয় ও অতিরিক্ত যাত্রী নিচ্ছে বলে যাত্রীদের পুলিশ সরিয়ে দিলো, তাও যাত্রীরা এতে করেই যাবে। মাঝিকে ধরতে গেলে ট্রলার ইঞ্জিন চালু করলো, সেটাকে ধরতে গেলাম, তখন শুনলাম নৌপুলিশের স্পীডবোট নষ্ট। অথচ আগে জানানো হয়নি। এরকম সক্ষমতা নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করাও একটা চ্যালেঞ্জ।এর আগে সকালে সিএন্ডবিতে সিএনজির ভাড়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলাম। সেটা আমার এরিয়া না হওয়ায় মোবাইল কোর্টে শাস্তি দিতে পারিনি কিন্তু প্রায় এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে ৩০টির মত সিএনজি সঠিক ভাড়ায় যাত্রীবহন নিশ্চিত করেছি। কাজীরহাটেও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রীদের অভিযোগে সাড়া দিয়ে সিএনজি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করেছি। কিন্তু একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অন্তর্যামী নন, তিনি একই সাথে সব জায়গায় থাকতে পারেন না। নিজ নিজ এলাকায় আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে দয়া করে আরো সচেতন হন। আর সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব, প্রশাসনতো আছেই।