Hi

০৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিঠাপুকুরে স্বাস্থ্যসেবার নামে চলে…….

মোঃ বিপ্লব হোসেন মুক্তি
রংপুর বিভাগীয় ব্যুরো চিফ
দুর্নীতি অনুসন্ধান নিউজ

 

চিকিৎসা সেবার নামে আরো যা করা হয়, সেটি হল, মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার। চরম দুর্ব্যবহার।।

বিশেষ করে, এখানকার নার্সরা মারাত্মক বেপরোয়া, তারা কাউকেই তোয়াক্কা করেনা, এমনকি ডাক্তারদেরকেই উল্টা ধমক দেয়, অপমানজনক কথা বলে। এখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তাও নাকি তাদের কিছুই করতে পারেন না। ওই কর্মকর্তা বলেন, এখানকার নার্সদের বেতন ভাতা তিনি দেন না, তাদের কোন বদলিও করতে পারেন না, যার ফলে তারা তার কোন নির্দেশ আদেশ মানেন না। এমনকি তাদের নামে রিপোর্ট করেও কোন ফল পাওয়া যায় না। তাদের কেন্দ্রীয় সংগঠন সব রিপোর্ট চাপা দিয়ে রাখে।
অতএব, এখানকার নার্সরা হল যারপর নাই, সেই ধরাছোঁয়ার বাইরে, মহাকাশের বাসিন্দা। আমার এ কথার প্রমাণ মিলবে, রাত বারোটার পর বাস্তবে হাসপাতালে গিয়ে দেখেন।
একটু ভাবলেই বোঝা যায়, গভীর রাতে মানুষ যখন হাসপাতালে যায়, নিঃসন্দেহে সেই রোগী জরুরী রোগী, অতি জরুরী রোগী। কিন্তু বিধি বাম, ডাক্তারকে ইমার্জেন্সিতে তাৎক্ষণিক পাওয়া গেলেও, ওয়ার্ডে উঠে নার্সকে পাওয়া দুরহ ব্যাপার। নার্সিং ডিউটি রুমে গিয়ে দেখবেন, টেবিলের পাশে থাকা চেয়ারগুলি ফাঁকা, উপরে ফ্যান ঘুরছে লাইট জ্বলছে, উনারা কোথায় অনুসন্ধানে রোগীদের কাছে জানা যায় উনারা পাশের রুমে ঘুমাচ্ছেন। দরজায় গিয়ে ডাকতে ডাকতে গলা শুকানোর পর প্রথমে যিনি বের হবেন, তিনি নাকি খালা। তাকে আপনার রুগীর বিবরণ কাগজপত্র দেখানোর পরে, উনি গা মোড়াতে মোড়াতে, গা হামাতে হামাতে বিছানা ফাঁকা থাকলে দেখায় দিয়ে বলবেন ওইখানে গিয়ে ওঠেন। না হলে তো ভাগ্য মেঝের উপর। বিছানার চাদর বালিশ কম্বলের কোন বালাই নাই। অনেক সাধনার পর কখনো কখনো মিলে যায় একটা দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা কম্বল অথবা বাস্তবে সাদা কাপড়ের একটি বিছানা চাদর হলেও যেটা দেখতে মনে হয় অনেকটা লাল বর্ণের।
এরপর এই খালা আবারো তাদের শোয়ার রুমে চলে যান এবং যাবার সময় বলেন নার্স আপাকে একটু আপনারাও ডাক দেন। এরপর শুরু হয় নার্স আপাকে ডাকার পালা। এক সময় নার্স আপা ভিতর থেকে সাড়া দেন, একটু থামেন আসছি, এরপর যায় অন্তত ১০-১৫-২০ মিনিট। কিছু বললেই তুলে ধরেন অকাট্য যুক্তি। বলেন, আমরা মেয়ে মানুষ না, আপনি ডাকলেই কি আমি সাথে সাথে উঠে আসতে পারি, আমার কাপড় পর্দার ব্যাপার আছে না?

অতএব কি আর করার ছাগলের বাচ্চার মত জরুরী রোগী নিয়ে ভ্যা ভ্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।
আমার কথার সাথে, একমত এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা যাদের আছে, দয়া করে সাড়াদিন, প্রতিবাদ করুন, অন্তত প্রতিকার না পেলেও গণ মানুষকে জানান দিন।

ট্যাগ :

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-মেইল ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

যাচাইকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবুর রাজ্যখ্যাত ঝালকাঠিতে লেবুর আকাল, রমজানে দ্বিগুণ দাম

দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের ৭ টি জেলার সাংবাদিকদের মাঝে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণ

© All rights reserved ©Durneti Anusandhan News
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Newseason IT

মিঠাপুকুরে স্বাস্থ্যসেবার নামে চলে…….

আপডেট সময় : ১২:২৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মোঃ বিপ্লব হোসেন মুক্তি
রংপুর বিভাগীয় ব্যুরো চিফ
দুর্নীতি অনুসন্ধান নিউজ

 

চিকিৎসা সেবার নামে আরো যা করা হয়, সেটি হল, মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার। চরম দুর্ব্যবহার।।

বিশেষ করে, এখানকার নার্সরা মারাত্মক বেপরোয়া, তারা কাউকেই তোয়াক্কা করেনা, এমনকি ডাক্তারদেরকেই উল্টা ধমক দেয়, অপমানজনক কথা বলে। এখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তাও নাকি তাদের কিছুই করতে পারেন না। ওই কর্মকর্তা বলেন, এখানকার নার্সদের বেতন ভাতা তিনি দেন না, তাদের কোন বদলিও করতে পারেন না, যার ফলে তারা তার কোন নির্দেশ আদেশ মানেন না। এমনকি তাদের নামে রিপোর্ট করেও কোন ফল পাওয়া যায় না। তাদের কেন্দ্রীয় সংগঠন সব রিপোর্ট চাপা দিয়ে রাখে।
অতএব, এখানকার নার্সরা হল যারপর নাই, সেই ধরাছোঁয়ার বাইরে, মহাকাশের বাসিন্দা। আমার এ কথার প্রমাণ মিলবে, রাত বারোটার পর বাস্তবে হাসপাতালে গিয়ে দেখেন।
একটু ভাবলেই বোঝা যায়, গভীর রাতে মানুষ যখন হাসপাতালে যায়, নিঃসন্দেহে সেই রোগী জরুরী রোগী, অতি জরুরী রোগী। কিন্তু বিধি বাম, ডাক্তারকে ইমার্জেন্সিতে তাৎক্ষণিক পাওয়া গেলেও, ওয়ার্ডে উঠে নার্সকে পাওয়া দুরহ ব্যাপার। নার্সিং ডিউটি রুমে গিয়ে দেখবেন, টেবিলের পাশে থাকা চেয়ারগুলি ফাঁকা, উপরে ফ্যান ঘুরছে লাইট জ্বলছে, উনারা কোথায় অনুসন্ধানে রোগীদের কাছে জানা যায় উনারা পাশের রুমে ঘুমাচ্ছেন। দরজায় গিয়ে ডাকতে ডাকতে গলা শুকানোর পর প্রথমে যিনি বের হবেন, তিনি নাকি খালা। তাকে আপনার রুগীর বিবরণ কাগজপত্র দেখানোর পরে, উনি গা মোড়াতে মোড়াতে, গা হামাতে হামাতে বিছানা ফাঁকা থাকলে দেখায় দিয়ে বলবেন ওইখানে গিয়ে ওঠেন। না হলে তো ভাগ্য মেঝের উপর। বিছানার চাদর বালিশ কম্বলের কোন বালাই নাই। অনেক সাধনার পর কখনো কখনো মিলে যায় একটা দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা কম্বল অথবা বাস্তবে সাদা কাপড়ের একটি বিছানা চাদর হলেও যেটা দেখতে মনে হয় অনেকটা লাল বর্ণের।
এরপর এই খালা আবারো তাদের শোয়ার রুমে চলে যান এবং যাবার সময় বলেন নার্স আপাকে একটু আপনারাও ডাক দেন। এরপর শুরু হয় নার্স আপাকে ডাকার পালা। এক সময় নার্স আপা ভিতর থেকে সাড়া দেন, একটু থামেন আসছি, এরপর যায় অন্তত ১০-১৫-২০ মিনিট। কিছু বললেই তুলে ধরেন অকাট্য যুক্তি। বলেন, আমরা মেয়ে মানুষ না, আপনি ডাকলেই কি আমি সাথে সাথে উঠে আসতে পারি, আমার কাপড় পর্দার ব্যাপার আছে না?

অতএব কি আর করার ছাগলের বাচ্চার মত জরুরী রোগী নিয়ে ভ্যা ভ্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।
আমার কথার সাথে, একমত এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা যাদের আছে, দয়া করে সাড়াদিন, প্রতিবাদ করুন, অন্তত প্রতিকার না পেলেও গণ মানুষকে জানান দিন।