
নিজস্ব প্রতিবেক
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের খালিয়াপাড়া গ্রামে পৈতৃক জমি জবরদখল ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ড কৃষক দলনেতা মো. আমিরুল ইসলাম ও তার ভাই-বোনদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে তার নিজের মামা এমারত হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, এমারত হোসেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্ষমতাশালী একটি সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ষড়যন্ত্র করছেন। এই সিন্ডিকেটে সরাসরি মদদ দিচ্ছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭ নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি আইয়ব আলী এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সদস্য (মেম্বার) মালেক। এছাড়াও বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহারকারী আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী এই দখল প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কৃষক দলনেতা মো. আমিরুল ইসলাম জানান, তাদের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত এই জমি দীর্ঘকাল ধরে তারা ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এবং ব্যক্তিগত রোষানল ও নানাবিধ ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তার নিজের মামা এমারত হোসেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে যোগসাজশ করেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আইয়ব আলী এবং সাবেক মেম্বার মালেকের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় চক্রটি মিথ্যা কাগজপত্র তৈরি ও পেশিশক্তির জোরে ওই জমিতে সিমেন্টের খুঁটি গেড়ে জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা করে।
পরিবারটির অভিযোগ, ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও স্থানীয় এই আওয়ামী দোসররা এখনো বিভিন্ন উপায়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে। কৃষক দল নেতা হওয়ায় মো. আমিরুল ইসলাম ও তার পরিবারকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করার হীন উদ্দেশ্যে এই জমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে পুরো পরিবারকে মিথ্যা মামলা, হামলা ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এলাকায় চরম অসন্তোষ ও ভীতি খালিয়াপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝেও এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরও তাদের দোসররা এভাবে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হলে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। একজন রাজনৈতিক নেতা ও তার ভাই-বোনদের পৈতৃক সম্পত্তি যদি এভাবে মামা ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের যোগসাজশে জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে, তবে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়—এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে। ভুক্তভোগী মো.আমিরুল ইসলাম ও তার ভাই-বোনেরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে এমারত হোসেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ব আলী, সাবেক মেম্বার মালেকসহ তাদের সাথে জড়িত সকল দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















